নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমায় পিকআপ ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষে ৮ জন নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।
আজ রোববার ভোর ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে শ্রমিকবাহী পিকআপের সঙ্গে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ডিআই পিকআপে করে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক রওনা দিয়েছিলেন। তারা সিলেট থেকে কাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন। পথিমধ্যে দক্ষিণ সুরমার তেতলী বাজার এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি কাঠবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহতদের সিলেট এম. এ. জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও ৪ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ জনে।
নিহতদের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত খরম আলীর ছেলে মো. সুরুজ আলী (৬০), একই উপজেলার শেষস্তি গ্রামের আব্দুল বাসিরের মেয়ে মোছা. মুন্নি (৩৫), সিলেটের জালালাবাদ থানার লালারগাঁও এলাকার সুজাত আলীর ছেলে মো. বদরুল (৩০) এবং দিরাই উপজেলার নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে মো. ফরিদুল (৩৫)। অন্য ৪ জনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরের কালিবাড়ি এলাকার মৃত শুকুর উল্লাহর ছেলে তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানার লোহারপাড়ার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে রামিন (৪০) ও একই এলাকার মল্লিক মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাউমারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জফুর আলীর ছেলে রাজা মিয়া (৪৫)।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির জানান, রোববার সকাল ৬টার দিকে সিলেট থেকে একটি ডিআই পিকআপে করে বেশকিছু নির্মাণ শ্রমিক সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে দক্ষিণ সুরমার তেতলী বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কাঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দুর্ঘটনার পর থেকেই পিকআপ ও ট্রাকউভয় চালক পলাতক রয়েছে বলেও জানান তিনি।











