সুদানের আদালতে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত ৩৫

অনলাইন ডেস্ক:

সুদানের উত্তর দারফুর অঞ্চলের গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামে একটি ঐতিহ্যবাহী আদালত চত্বরে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে এ হামলা চালানো হয়।

 

সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী আইনি সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামের একটি গাছের নিচে বসানো ঐতিহ্যবাহী আদালতে স্থানীয় বিরোধ ও বিভিন্ন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছিল। এ সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ, স্থানীয় নেতা ও কমিউনিটির সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

 

হঠাৎ আদালত চত্বরে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে আদালতসংলগ্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় সেখানে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

 

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিহতদের মধ্যে স্থানীয় চারজন প্রভাবশালী আদিবাসী নেতা এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) দুজন কমান্ডার রয়েছেন। হামলার শিকার গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামটি বর্তমানে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

হামলার বিষয়ে সুদানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামটি কাবকাবিয়া শহরের কাছে অবস্থিত। দারফুর অঞ্চলের সাবেক সেনাঘাঁটি আল-ফাশের থেকে গ্রামটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে আরএসএফ এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

 

আল-ফাশের দখলের সময় আরএসএফের চালানো হামলায় ‘গণহত্যার স্পষ্ট আলামত’ দেখা গিয়েছিল বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন।

 

সুদানে বর্তমান গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ২০২৩ সালের এপ্রিলে। সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং তার সাবেক মিত্র আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে এই সংঘাত শুরু হয়।

 

তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাতের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দারফুর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই তীব্র হওয়ার পর সেনাবাহিনী ও আরএসএফ উভয় পক্ষই ড্রোন ব্যবহারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে।

 

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই উভয় পক্ষের ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের কারণে সুদানে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি তৈরি হয়েছে এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে।

 

আদালত চত্বরে সর্বশেষ এই হামলা সেই সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।