সৌদির দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

অনলাইন ডেস্ক:

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এ ঘটনায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

বুধবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধ অমান্য করায় ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামের দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

 

তিনি দাবি করেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায়। একই সঙ্গে হুথিদের অভিযানের কারণে প্রায় ১০টি জাহাজ নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

এদিকে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, ‘এনসেলিয়া’ ট্যাংকারটি হামলার শিকার হয়েছে। সৌদি আরবের ট্রান্সপোর্ট জেনারেল অথরিটির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদে রয়েছেন।

 

এসপিএ বলেছে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে ‘লায়লা’ ট্যাংকারে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

 

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের সরকার ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসা হুথিরা গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে।

 

এর আগে ইয়েমেন সরকার হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমা হামলা চালিয়ে একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দেয়। ওই ঘটনার পরই দেশটিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার একটি পর্ব শুরু হয়।

 

হুথিদের দাবি, “চোখের বদলে চোখ”নীতির ভিত্তিতে তারা এই সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করেছে। তাদের ভাষ্য, ইয়েমেনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত অবরোধের জবাব হিসেবেই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে।

 

সূত্র: আল জাজিরা