নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যেই সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বাজেটের প্রাপ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “বাজেটের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে, এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।”
নির্বাচন আয়োজনের অর্থায়ন নিয়েও সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অর্থ চলতি জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার পর স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত আরও কয়েকটি বিষয়ে তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবাকে আরও আধুনিক করার উদ্যোগও চলমান রয়েছে।











