নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের স্বাস্থ্যখাতকে দীর্ঘদিনের অবহেলা থেকে বের করে এনে সবার জন্য সমান চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। মঙ্গলবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটসহ নতুন কয়েকটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো এমন অবস্থায় আছে যেখানে মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার জন্য মানুষকে প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চাপ, স্বাস্থ্যকর্মীদের সীমিত সক্ষমতা এবং সেবার অসম বণ্টন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, “মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ এখনো সাধারণ মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়। ফলে অসুস্থতা অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।” তাঁর মতে, এটি শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট।
ঢাকা-১৭ এলাকার কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা বস্তির মানুষের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব এলাকার মানুষ শহরের অর্থনীতি সচল রাখলেও তারা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। অনেকেই এখনো প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “আমরা চাই নবজাতক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই সহজে চিকিৎসা পাক। অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও যেন জরুরি চিকিৎসা দ্রুত পায়। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।” তিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান, যাতে জনগণ সহজেই সেবার তথ্য জানতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি জানান, জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই নতুন এই সেবাগুলো চালু করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে দ্রুত পরিবর্তন আনার উদ্যোগ চলছে এবং এ উদ্যোগের সুফল ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন চালু হওয়া ৫০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক টিম যুক্ত করা হয়েছে। এতে করে গুরুতর রোগীদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের বড় অংশ জনগণের নিজস্ব খরচে বহন করার প্রবণতা এখনো উচ্চ, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।











