অনলাইন ডেস্ক:
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। রোববার (১২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রয়টার্স ও মিডল ইস্ট আই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আইআরজিসির দাবি, একটি জাহাজ নিজের অবস্থান শনাক্তকারী বা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছিল। পরে জাহাজটিতে হামলা চালিয়ে সেটিকে থামানো হয়। তবে জাহাজটির পরিচয় বা অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কয়েকটি জাহাজ নির্ধারিত নৌপথের পরিবর্তে ‘অননুমোদিত পথ’ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে। তাদের পথ পরিবর্তনের জন্য সতর্ক করা হলেও তারা সেই নির্দেশ অমান্য করে। এ পরিস্থিতিতে আইআরজিসি জানায়, বিদেশি হস্তক্ষেপ বা অবৈধ নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
আইআরজিসি বলেছে, “এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।” একই সঙ্গে নতুন কোনো হামলা বা নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে “শক্ত হাতে জবাব” দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ করা হবে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ অবাধ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার উদ্যোগ নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই নৌপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।











