হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে বুধবার (১৯ আগস্ট) নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন এ রিট আবেদন করেন।

 

রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ বি এম ইব্রাহিম খলিল রিট করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবদুল হান্নান মাসউদের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে।

 

রিটে হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী করা এই রিটে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তাকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

 

রিটকারীর আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল জানান, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে।

 

রিট পিটিশন সূত্রে জানা যায়, হান্নান মাসউদের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে ওই আবেদনের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রিটকারীর। এ কারণে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে রিটটি করা হয়েছে। আবেদনে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

 

রিটে হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারিরও আবেদন জানানো হয়েছে।

 

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এনসিপির আবদুল হান্নান মাসউদ। নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি সংসদ সদস্য হন। নির্বাচনের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ওই নির্বাচনে সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থী ছিলেন এবং নির্বাচিতদের মধ্যেও সবচেয়ে কম বয়সে সংসদ সদস্য হন।

 

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হান্নান মাসউদ জাতীয়ভাবে পরিচিতি পান। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বের শূন্যতায়ও তিনি সক্রিয় ছিলেন। পরে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যোগ দেন এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন।

 

রিটের অভিযোগের বিষয়ে এখন আদালতের শুনানি ও পরবর্তী আদেশের দিকে নজর রয়েছে।