হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, রোগী ২ লাখ ছুঁইছুঁই

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ সময়ে পরীক্ষায় ১০২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৪ জনে।

 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকালে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে ঢাকায় দুজন, চট্টগ্রামে দুজন, বরিশালে একজন ও খুলনায় একজন ছিলেন। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত বা হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৩ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৯১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

 

একই সময়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১০২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ১০ এপ্রিল থেকে দেশে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৯১০ জনে।

 

মৃত্যুর হিসাবে, হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০২ জন। ফলে দুই হিসাব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ১৩৪ জন।

 

হামের উপসর্গে মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা বিভাগ। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত ৪৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর সিলেটে ১৭৯ জন, রাজশাহীতে ৯৩, চট্টগ্রামে ৯০, ময়মনসিংহে ৮০, বরিশালে ৬১, খুলনায় ৪৫ এবং রংপুরে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৮০ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ১৪৮ জন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫১৬ জন। চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৯০ জন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হিসাব রাখা হচ্ছে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালে না আসা রোগীদের সবার পরীক্ষা করা হয় না। ফলে দেশে হাম আক্রান্ত রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না। মূলত হাসপাতালে আসা বা ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতেই হিসাব নথিভুক্ত করা হচ্ছে।