১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রাকৃতিক প্রজনন মৌসুমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে সুন্দরবনে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পর্যটক প্রবেশ ও মাছ-কাঁকড়া ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। এই সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে সব ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা টহল।

রোববার (১ জুন) থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা সুন্দরবনের বাংলাদেশের অংশে বহাল থাকবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান।

তিনি জানান, “সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে অন্তত ২৫১ প্রজাতির মাছ বর্ষাকালে ডিম ছাড়ে। এই সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের সংখ্যা বাড়ে এবং জীববৈচিত্র্য টিকে থাকে।” এ লক্ষ্যে স্থানীয়দের মাইকিং করে জানানো হয়েছে, বন্ধ রাখা হয়েছে পর্যটন কার্যক্রম ও মাছ ধরার অনুমতি।

তবে এই নিষেধাজ্ঞায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় টানা তিন মাস আয়বিহীন দিন কাটাতে হবে বলে জানাচ্ছেন কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া ও পাথরখালী এলাকার বনজীবীরা।

স্থানীয় জেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, “সুন্দরবন বন্ধ থাকলে আমাদের কোনো উপার্জন থাকে না। অথচ এই সময় সাগরের জেলেরা সরকারি সহায়তা পেলেও আমরা কিছুই পাই না।”

বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, খুলনা রেঞ্জের সব স্টেশনে পাস-পারমিট বন্ধ করে টহল জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্য প্রাণী শিকার, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরাসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।