নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের আগে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চলতি বছরের শেষেই উদ্বোধন করা হবে।
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে বেসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সমন্বিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, সশস্ত্র বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সরাসরি ফ্লাইট প্রসঙ্গে আফরোজা খানম বলেন, নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও বহর সম্প্রসারণের আগে ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে না।
একই অনুষ্ঠানে দেশের বিমান খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন মাস্টারপ্ল্যান আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের উন্নয়ন লক্ষ্য, অগ্রাধিকার এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। এর আওতায় বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, এয়ার ন্যাভিগেশন সেবার আধুনিকায়ন, এয়ারলাইন্স খাতের সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল তৈরি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন আফরোজা খানম। তিনি জানান, জাপানি রাষ্ট্রদূত এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটির উদ্বোধন করা।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করতে পারবে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে চলতি বছরের শেষেই যাত্রীদের জন্য তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পথ তৈরি হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, জুলাই মাসে জাপানের সঙ্গে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংক্রান্ত একটি চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পালন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, আর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ করবে একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান।
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি ২০১৭ সালে অনুমোদন পায়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের আয়তন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। প্রকল্পের বর্তমান ব্যয় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা, যার বড় অংশ অর্থায়ন করছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা।
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যও পুনর্ব্যক্ত করেন আফরোজা খানম। তিনি বলেন, বগুড়া বিমানবন্দরসহ দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে বিমান পরিবহন খাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।











