২০ হাজারের বেতনও কমালে মানবে না সরকারি কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নবম জাতীয় পে স্কেলে সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা মূল বেতন আরও কমানো হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো আসার প্রেক্ষাপটে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারিরও দাবি জানিয়েছে তারা।

শনিবার সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়। সংগঠনটির ভাষ্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। সে হিসাবে বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন দ্বিগুণ হয়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হওয়ার কথা। অথচ অন্য একটি প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হচ্ছে। সংগঠনটির মতে, বর্তমান বাজার বাস্তবতায় এই বেতনও পর্যাপ্ত নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, অতীতের বিভিন্ন জাতীয় পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের বেতন ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বাড়ানোর নজির রয়েছে। সেই তুলনায় এবার নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবকে অপর্যাপ্ত মনে করছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের যে হারে বেড়েছে, প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধিতে কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর নবম পে স্কেল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এরই মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে আয় মিলিয়ে চলতে পারছেন না বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার আগেই জীবনযাত্রার ব্যয় যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে শুধু নামমাত্র বেতন বৃদ্ধি কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমাতে পারবে না।

সংগঠনটি আরও জানায়, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি জাতীয় পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর মতবিনিময় সভাতেও কর্মচারীদের আর্থিক দুরবস্থা এবং আয় ও দ্রব্যমূল্যের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে আগের দুটি পে স্কেলের সমন্বয় করে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিলেন কর্মচারীরা।

তবে সেই দাবির তুলনায় অনেক কমিয়ে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংগঠনটির অভিযোগ। অন্যদিকে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, নিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের এই ব্যবধান বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে।

সচিব কমিটির সুপারিশ থেকে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার বেতনও কমানো হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এতে নতুন বেতন কাঠামো ও বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য আরও কমে যাবে। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা, আর্থিক সংকট ও অস্থিরতাও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের সময় সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দ্রুত গেজেট প্রকাশের আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।

২০১৫ সালের পর নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নবম পে স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো কতটা বাস্তবসম্মত হয় এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের দাবির কতটা প্রতিফলন ঘটে, সেটিই দেখার বিষয়।