অনলাইন ডেস্ক:
বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে নতুন রেকর্ড গড়েছে। গত শুক্রবার স্বর্ণের মূল্য প্রতি আউন্স ৩০০৪.৮৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ শতাংশ বেড়েছে। এটি স্বর্ণের জন্য একটি ঐতিহাসিক মূল্য বৃদ্ধি।
যুক্তরাষ্ট্র এবং তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্ববাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষত শুল্ক আরোপের কারণে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলছে। শুল্কের ফলে ব্যবসায়ীরা বাড়তি ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন, যার প্রভাব সরাসরি ভোক্তাদের পণ্যের দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময় স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়ার পরিবর্তে তারা স্বর্ণে বিনিয়োগ করছেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মূল্যবান ধাতু বিশ্লেষক সুকি কুপার জানিয়েছেন, “ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং চলমান শুল্ক পরিবর্তনের কারণে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।”
হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের ফান্ড গবেষণা বিভাগের প্রধান ভিক্টোরিয়া হাসলার বলেন, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং তার সামাজিক মিডিয়ায় মন্তব্যের কারণে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্য এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এই অনিশ্চয়তা। এর ফলে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও তাদের রিজার্ভে স্বর্ণ ক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। গত বছর, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এক হাজার ৪৫ টন স্বর্ণ কিনেছে, এবং এই প্রবণতা গত তিন বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে। হাসলার বলেন, “মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ কেনা অব্যাহত রেখেছে, যা স্বর্ণের দাম বাড়াচ্ছে।”
২০০৭ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের সময়ও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল, কারণ তখনকার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ বেছে নিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের শেষ দিকে স্বর্ণের দাম এক হাজার ২০০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল, কিন্তু কোভিড মহামারি, সরকারি বাজেট ঘাটতি এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান স্বর্ণের বাজারকে চাঙ্গা করেছে।
বিশ্ব স্বর্ণ পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের রিজার্ভে টানা তিন বছর ধরে এক হাজার টনের বেশি স্বর্ণ কিনছে। এদিকে, বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্বর্ণের বাজারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।











