অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কানাডা। তবে সব শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শঁপাইন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দিতেই কানাডা প্রাথমিকভাবে ৬০ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মধ্যে ৭০ শতাংশ এখনও বহাল রয়েছে।
গত ৭ মে প্রকাশিত এক সরকারি গেজেটে জানানো হয়, খাদ্য, স্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা, উৎপাদন ও জনসুরক্ষায় ব্যবহৃত কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর মুখপাত্র অড্রে মিলেট জানান, এই ছয় মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে যেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্গঠনের মাধ্যমে মার্কিন পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে কার্নি প্রশাসন। বিরোধীদলীয় নেতা পিয়েরে পলিয়েভ্রে অভিযোগ করেন, সরকার জনগণকে না জানিয়ে চুপিসারে সব শুল্ক তুলে নিয়েছে। তিনি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকনমিকসের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এত পণ্য এই ছাড়ের আওতায় এসেছে যে কার্যকর শুল্কহার প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।
অর্থমন্ত্রী শঁপাইন এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, “এটি মিথ্যাচার।” তিনি জানান, শুল্ক আরোপের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায্যতা-বহির্ভূত শুল্কের জবাব দেওয়া, তবে সেটি করতে গিয়ে যেন কানাডার অর্থনীতির ক্ষতি না হয়—সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর এখনও ৪৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের শুল্ক বহাল রয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে, রোমে পোপ লিও চতুর্দশের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিষয়ে বৈঠক করেন। কার্নির দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা “তাৎক্ষণিক বাণিজ্যচাপ এবং নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক গঠনের প্রয়োজন” নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও ভ্যান্স এই বৈঠককে “সাধারণ সৌজন্যপূর্ণ আলোচনা” বলেই উল্লেখ করেন।
গত ২৮ এপ্রিলের নির্বাচনে ট্রাম্পপন্থী শুল্কনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ক্ষমতায় এসেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। নির্বাচনী প্রচারে কারখানাগুলোকে শর্তসাপেক্ষে কিছু ছাড় দেওয়ারও ঘোষণা দেন, যদি তারা কানাডায় উৎপাদন ও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ সাধারণ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম খাতে অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছেন, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে ইতিমধ্যে কানাডার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।











