অনলাইন ডেস্ক:
কানাডা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক স্থগিত করেছে। তবে অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শঁপাইন জানিয়েছেন, সব শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়নি—৬০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে এখনও ৭০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এই পদক্ষেপ কানাডার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কানাডার সরকারি গেজেট অনুযায়ী, খাদ্য, স্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা, উৎপাদন ও জনসুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর মুখপাত্র অড্রে মিলেট বলেন, “এই সাময়িক ছাড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক সময়, যাতে তারা সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।”
এই সিদ্ধান্ত বিরোধীদলীয় নেতা পিয়েরে পলিয়েভ্রে কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে। তিনি দাবি করেন, “কার্নি সরকার চুপিসারে সব শুল্ক তুলে নিয়েছে এবং জনগণকে না জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তিনি গবেষণা সংস্থা অক্সফোর্ড ইকনমিকস-এর তথ্য তুলে ধরে বলেন, এত বেশি পণ্য এই ছাড়ের আওতায় পড়েছে যে কার্যকর শুল্কহার প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।
অর্থমন্ত্রী শঁপাইন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এটি মিথ্যাচার। কানাডা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ৬০ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক বহাল রেখেছে, যার মধ্যে ৭০ শতাংশ কার্যকর রয়েছে।” তিনি জানান, এই শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দিতে নেওয়া হলেও, এর ফলে নিজেদের অর্থনীতি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ট্রাম্পবিরোধী কঠোর বাণিজ্যনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন। নির্বাচনের পরপরই ট্রাম্প সরকারের শুল্ক আরোপের জবাবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা বিলিয়ন ডলারের শুল্ক বসায়। তবে কারখানাগুলোর জন্য শর্তসাপেক্ষে কিছু ছাড় দেওয়া হয়, যদি তারা কানাডায় উৎপাদন ও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখে।
সম্প্রতি রোমে পোপ লিও চতুর্দশের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী কার্নি ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কার্নির দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা “তাৎক্ষণিক বাণিজ্যচাপ এবং অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা” নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে ভ্যান্স এই বৈঠককে “সাধারণ সৌজন্যপূর্ণ আলোচনা” হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ৪৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের শুল্ক বহাল রেখেছে। কানাডার ৪১ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ রপ্তানি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ সাধারণ শুল্ক এবং গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম খাতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে কানাডার অর্থনীতি ইতোমধ্যে ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে কিছু শুল্ক আলোচনার সুবিধার্থে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।











