ডায়রিয়ায় হাসপাতালে জায়গা পাচ্ছে না মানিকগঞ্জের রোগীরা

জেলা প্রতিনিধি :

মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়রিয়া ইউনিটে রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শয্যার তুলনায় রোগী কয়েকগুণ বেশি হওয়ায়, রোগীরা ওয়ার্ডে জায়গা পাচ্ছেন না। এর ফলে, মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অক্টোবর মাস থেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। শীতকালীন সময়ের শুরু থেকেই রোগীর চাপ আরও বেড়েছে। গত ডিসেম্বরের শুরু থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ আলপনা আক্তার জানান, প্রতিদিন গড়ে ২০ জন রোগী আসছেন, যাদের বেশিরভাগই শিশু। শিশুদের সঙ্গে দুই-তিনজন স্বজনও থাকেন, যার কারণে স্থান সংকুলান খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। শয্যার অভাবের কারণে মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, এবং অনেক রোগী জায়গা না পেয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতলে চলে যাচ্ছেন।

এদিকে, ৪ বছর বয়সী শিশু আকিবের মা শিউলী বেগম বলেন, “আমার সন্তান বমি এবং পাতলা পায়খানায় ভুগছিল, চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে এসে ডায়রিয়া ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তবে, হাসপাতালের পরিবেশ খুব নোংরা হওয়ায় আমি চিন্তিত। রোগী ও স্বজনরা অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে।”

কিছু রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ডায়রিয়া ইউনিটের শৌচাগার নোংরা এবং অপরিচ্ছন্ন। এছাড়া, কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবও রয়েছে, ফলে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এবিএম তৌহিদুজ্জামান বলেন, “ডায়রিয়া ইউনিটে ২০টি শয্যা রয়েছে, তবে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু। অতিরিক্ত রোগী চাপের কারণে সাধারণ ওয়ার্ডে মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ডায়রিয়া ইউনিটের পরিবেশ নোংরা হয়ে পড়েছে।”

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা সাধ্যমতো চিকিৎসা প্রদান করছেন, তবে কিছু ওষুধের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। কলেরা স্যালাইন এবং সিপ্রোসিন জাতীয় ওষুধের অভাব রয়েছে, যার কারণে রোগীদের বাইরে থেকে তা কিনে আনতে হচ্ছে।

জেলা হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিলুফার ইয়াসমিন জানান, শীতকালীন কারণে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। তিনি শীতকালে শিশুদের ঠান্ডা খাবার না খাওয়ানোর এবং গরম কাপড় পরানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বাহা উদ্দিন জানান, অতিরিক্ত রোগীদের জন্য মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্য ওয়ার্ডে রোগীদের স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।