ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, যদিও বিশ্বজুড়ে পরিবর্তন ঘটছে, তবে ভারত ও বাংলাদেশ সত্যিই একে অপরকে এমন কিছু দিতে পারে যা পেতে তাদের অন্য কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। তিনি আরো বলেন, ভারত এই সম্পর্ককে এক ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক হিসেবে দেখতে চায়, যা উভয়ের জন্য লাভজনক।

২৪ ডিসেম্বর, সোমবার, নয়া দিল্লিতে দুই ধাপের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে হাইকমিশনে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে এ মন্তব্য করেন প্রণয় ভার্মা। তিনি ভারতের গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ এবং প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভার্মা বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা এই সম্পর্কের দিকে তাকাচ্ছি। আমাদের একে অপরকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে, বিশেষত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দু দেশের সম্পর্ককে পরস্পরের স্বার্থ, উদ্বেগ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি সংবেদনশীল হয়ে বিবেচনা করতে হবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা সত্যিই বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক চাই, যা উভয়ের জন্য লাভজনক। তবে, এই সম্পর্ক অবশ্যই পরস্পরের জন্য লাভজনক হতে হবে। জনগণই এই সম্পর্কের মূল অংশীজন।’

ভার্মা বলেন, ‘সম্পর্কের অগ্রগতি ধীর হয়েছে- এমন ধারণা ঠিক নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসকে পাঠানো বার্তা, ফোনালাপ এবং ভয়েস অব গ্লোবাল সাউথ সামিটে অধ্যাপক ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানানো- এসবই ইঙ্গিত দেয় যে, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তৌহিদ হোসেনের বৈঠক এবং সম্প্রতি পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক সম্পর্কের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রমাণ।

ভার্মা বলেন, ‘ভারত থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাংলাদেশে আসছে এবং ভিসা অনুমোদনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। আমাদের সম্পর্কের মূল বিষয়গুলোকে এগিয়ে নিতে যা যা করা প্রয়োজন, দিল্লির পক্ষ থেকে সেসব করা হচ্ছে।’

এই মতবিনিময় সভায় ডিক্যাব (ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ) এর সভাপতি নুরুল ইসলাম হাসিব ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ডিক্যাবের সাবেক সভাপতি ও ডেইলি সান সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, ভিউজ বাংলাদেশের সম্পাদক মেহেদী হাসান রাশেদ এবং নিউ এজের চিফ অফ করেসপন্ডেন্টস মোস্তাফিজুর রহমান তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।