অনলাইন ডেস্ক:
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় তেমন সফলতা আসেনি বলে দাবি করেছে পেন্টাগনের গোয়েন্দা শাখা ‘ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ)’। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, হামলায় লক্ষ্যবস্তু তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার মধ্যে দুটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি এবং ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সম্ভবত মাত্র কয়েক মাসের জন্য থমকে গেছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) ডিআইএ’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা সিএনএন-কে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের তদারককারী সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন তৈরি করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে চালানো ওই হামলায় নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহানে গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে বিস্ফোরক বর্ষণ করা হয়। তবে ফোরদো কেন্দ্রটি জাগরোস পর্বতমালার ৩০০ ফুট পাথরের নিচে অবস্থিত হওয়ায় সেটি ধ্বংসে ব্যর্থ হয় যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, হামলার আগে ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ সরিয়ে ফেলেছিল এবং সেগুলো গোপন স্থাপনায় স্থানান্তর করা হয়।
যদিও ট্রাম্প তার ভাষণে এই হামলাকে “একটি অসাধারণ সামরিক সাফল্য” বলে দাবি করেছেন, তবে গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে বাস্তবতা ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এবং তারা এখন শান্তির পথ বেছে নিতে বাধ্য।”
তবে ডিআইএ’র একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, “যদি এই প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্য সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে চূড়ান্ত মূল্যায়নে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও কম দেখাতে পারে।”
এদিকে, হোয়াইট হাউস এই ফাঁস হওয়া মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, “এই তথাকথিত মূল্যায়ন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সাহসী ফাইটার পাইলটদের হেয় করার একটি প্রচেষ্টা।”
এছাড়া, রবিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেন, “আমরা এখনো জানি না ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুদ কোথায় রয়েছে।”
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সোমবার বলেন, “ইরানের ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের অবস্থান এখন আর নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।”
পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ফোরদোর মতো ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে ‘বাংকার বাস্টার’ জিবিইউ-৫৭ বোমাও যথেষ্ট নয়। কেবলমাত্র কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র দিয়েই এগুলো ধ্বংস সম্ভব বলে জানায় পেন্টাগনের ডিফেন্স থ্রেট রিডাকশন এজেন্সি।
যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত মূল্যায়ন এখনো প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ার জেনারেল ড্যান কেইন। তার মতে, “তিনটি স্থাপনাতেই গুরুতর ক্ষতি হয়েছে, তবে পুরো ধ্বংস এখনো নিশ্চিত নয়।”











