মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়ার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘গোপন বৈঠক’কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেনাবাহিনীর মেজর সাদিকুল হক, তার স্ত্রী সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিন, এবং ‘অপারেশন ঢাকা ব্লকেড’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আদনান বিন আব্দুল্লাহ চৌধুরীসহ অন্তত ২৩ জনকে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ সুমাইয়ার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাকে আগের দিন চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একইসঙ্গে আদনান চৌধুরীর ৭ দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করা হয়েছে।
‘বৈঠকের’ পেছনে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৮ জুলাই বসুন্ধরার কে বি কনভেনশন হলে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক ‘গোপন বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে তিন শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং শাহবাগ মোড় দখলের পরিকল্পনাসহ রাজধানীতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ছক কষা হয়।

তদন্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, মেজর সাদিক ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে আওয়ামী লীগপন্থি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সেনাবাহিনী নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে।

৩১ জুলাই, মিলিটারি অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা জানান, “মেজর সাদিক সেনাবাহিনীর হেফাজতে আছেন, তার বিষয়ে তদন্ত চলছে। দোষ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আইএসপিআরের ১ আগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৭ জুলাই তাকে রাজধানীর উত্তরা থেকে আটক করা হয় এবং তদন্ত আদালত গঠন করে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বে দেখা হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে সুমাইয়া জাফরিনকে পুলিশের একজন এএসপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে ২ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, “এই নামে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা নেই।”

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক জ্যোতির্ময় মণ্ডল মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়েছে, ‘অপারেশন ঢাকা ব্লকেড’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয়ে কিছু নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা সহিংস পরিকল্পনায় লিপ্ত ছিলেন। মামলায় শামীমা নাসরিন শম্পা ও সোহেল রানার ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।

তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।