জেলা প্রতিনিধি :
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচার শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। আজ মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-২ এ চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য শেষে ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদকে গুলিবর্ষণের দুটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এ সময় আদালতে উপস্থিত আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন চোখ মুছতে মুছতে ছেলের ওপর গুলিবর্ষণের দৃশ্য দেখেন।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল (২৮ আগস্ট) মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
২০১৮ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ (২৫)। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলন আরও বেগবান হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান শুরু হলে গত ৫ আগস্ট ভারতের উদ্দেশে পালিয়ে যান তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডসহ গত বছরের জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে যে সহিংস দমনপীড়ন চালানো হয়, তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে এসব অভিযোগের বিচার চলছে।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর ৬ জন গ্রেপ্তার আসামি আজ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
৩০ জুলাই মামলার অভিযোগ গঠনের আবেদন করে প্রসিকিউশন এবং ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করে ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের দিন নির্ধারণ করে।
আসামিপক্ষ থেকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হলেও ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়।











