রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বাড়ছে তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক:

রাশিয়ার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর টানা তৃতীয়বারের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল সোমবার, ৮১ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেল রফতানি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়বে।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৮ জানুয়ারি থেকে ব্রেন্ট এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সময় ১টা ১৩ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৪৮ ডলার বেড়ে ৮১ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ২৭ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫৩ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৭৮ দশমিক ৩৯ ডলারে পৌঁছায়, যা ৮ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।

এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাশিয়ার তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গাজপ্রম নেফট, সারগাটবেফটেগাস এবং ১৮৩টি রুশ তেল পরিবহনকারী জাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার অর্থায়নে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং রাশিয়ার তেল রফতানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার তেলের অন্যতম ক্রেতা চীন ও ভারত, যেগুলি যথাক্রমে বিশ্বের প্রথম এবং তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। চীন ও ভারতকে তেল আমদানি করতে হলে তারা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা বা আমেরিকা থেকে তেল কিনতে বাধ্য হবে, যার ফলে পরিবহন খরচ এবং সময় বাড়বে। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে দৈনিক গড়ে ১৫ লাখ ব্যারেল তেলের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার মধ্যে চীনে প্রায় সাড়ে সাত লাখ এবং ভারতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ব্যারেল রফতানি হত।