অনলাইন ডেস্ক:
কাতারের রাজধানী দোহায় গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে চলছে চূড়ান্ত আলোচনা। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে হামাস তাদের হাতে বন্দি থাকা ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। চুক্তির বিস্তারিত তথ্য সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, মুক্তি পেতে যাওয়া জিম্মির বেশিরভাগই জীবিত আছেন, তবে তাদের মধ্যে কয়েকজন ‘নিহত’ জিম্মিও থাকতে পারেন, এবং তাদের মরদেহও ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের দক্ষিণ সীমান্তে হামলা চালিয়ে ২৫১ জনকে জিম্মি করেছিল, এর মধ্যে বর্তমানে ৯৪ জন হামাস ও তাদের মিত্রদের কাছে বন্দি রয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির চুক্তি খুব শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা প্রস্তুত আছেন যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে হামাসের উসকানির অবসান ঘটবে এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তার সুযোগ তৈরি হবে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, গাজার ফিলাডেলফি করিডরে ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে। তবে, হামাস এই শর্ত মেনে নেওয়ার আভাস দিয়েছে। চুক্তির প্রথম পর্যায়ে গাজার সংঘাত বন্ধ হবে, এবং এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ের যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্য দিয়ে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এছাড়া, গাজার একটি বাফার জোন তৈরি করবে ইসরায়েল, তবে এর আকার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বাফার জোন গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের নিরাপদভাবে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে, এই ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়।
যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদেরও মুক্তি দেওয়া হবে। তবে, যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হত্যার অভিযোগ রয়েছে, তাদের পশ্চিম তীরে মুক্তি দেওয়া হবে না। এই ব্যক্তিরা গাজার বাইরে বা আলোচনা সাপেক্ষে অন্য জায়গায় মুক্তি পাবেন।
এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে, তবে কিছু আনুষ্ঠানিক জটিলতা বাকি রয়েছে। তিনি জানান, ইসরায়েল চুক্তির শর্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত, তবে প্রথমে নিরাপত্তা ক্যাবিনেট ও পূর্ণাঙ্গ সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫০ জন জিম্মি হন। এরপর থেকে গাজার সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে, যার ফলে প্রায় ৪৬ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং ১ লাখেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।











