অনলাইন ডেস্ক:
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইয়ন সুক ইয়লকে বিদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে দেশটির পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর তার বাসা ঘেরাও করে তিন হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য। রক্তপাত এড়াতে তদন্তে সহায়তা করতে সম্মত হয়ে তিনি নিজেকে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে সমর্পণ করেন।
ইয়ন সুক ইয়ল বলেন, “যখন অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাঙা হচ্ছে, তখন আমি রক্তপাত এড়াতে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যদিও এই জিজ্ঞাসাবাদ অবৈধ।” বুধবার সকালে তাকে মোটরশোভাযাত্রা নিয়ে তদন্তকারীদের অফিসে যেতে দেখা যায়। এখন তাকে ৪৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হবে, এরপর আদালতের কাছে তাকে ২০ দিনের জন্য আটক রাখার পরোয়ানা চাওয়া হবে অথবা ছেড়ে দেওয়া হবে।
ইয়ন সুকের গ্রেপ্তারকে অবৈধ বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবীরা এবং অভিযোগ করেছেন যে তাকে জনসমক্ষে হেনস্তা করা হচ্ছে। গ্রেফতারের সময় ইয়ন সুকের অশ্রুসিক্ত সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
গত বছর ৩ ডিসেম্বর সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইয়ন সুক, যা সবার জন্য বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছিল। ১৪ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে অভিশংসন প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর তিনি সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
এশিয়ার সবচেয়ে প্রাণবন্ত গণতন্ত্র এবং চতুর্থ বড় অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক শাসন জারির পর ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। দেশটিতে প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার হলেন, যদিও আগে সাবেক নেতাদের কারাবন্দি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।











