অনলাইন ডেস্ক:
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল জানিয়েছেন, দুর্নীতি বিরোধী কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনও প্রশ্নের উত্তর দেবেন না। তার আইনজীবীরা গতকাল এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইউন ৩ ডিসেম্বর সামরিক আইন জারি করার ঘটনায় আটক হন, এবং এই ঘটনায় তদন্ত চলছে।
গত বুধবার তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে, পরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্ত কার্যালয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়। সেখানে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা জিজ্ঞাসাবাদে ইউন সিদ্ধান্ত নেন, তিনি আইনি অধিকার অনুযায়ী নীরব থাকবেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাকে দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করার চেষ্টা করবেন।
ইউনের বিরুদ্ধে এই তদন্ত চলছে, যাতে জানা যায়, তিনি সামরিক আইন জারি করে দেশদ্রোহের অপরাধ করেছেন কিনা। পুলিশ ও সামরিক বাহিনী যৌথভাবে এই তদন্ত পরিচালনা করছে। আটকের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি আদলতের আদেশ পাওয়া যায়, তবে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। অন্যথায়, তাকে ছেড়ে দিতে হবে।
এদিকে, ইউনের আইনজীবীরা পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে দাবি করেছেন। তারা সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে ইউনের মুক্তির জন্য আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, সিউল ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের পরোয়ানা অগ্রহণযোগ্য।
এছাড়া, ইউনের আইনজীবী সেওক ডং-হ্যেওন জানিয়েছেন, সাংবিধানিক আদালতের শুনানিতে ইউনের উপস্থিতি নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে সম্ভব হয়নি। আদালত প্রাঙ্গণে তার হাজার হাজার সমর্থক ইউনের মুক্তির দাবি জানিয়ে সমবেত হন।
এখন যদি গ্রেফতারের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে ২০ দিন পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখা যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে মামলাটি পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে যদি দেশদ্রোহ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে প্রসিকিউটররা মামলা দায়ের করেন, তাহলে ইউন ছয় মাস পর্যন্ত আটক থাকতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা প্রাণদণ্ডের শাস্তি হতে পারে।











