৩০০ ফিটে মানুষের মহাসমুদ্র: তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার তিন’শ ফিট সড়ক এখন এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেখা যায়, তিন’শ ফিট সড়ক, এর অলিগলি এবং পার্শ্ববর্তী সংযোগ সড়কগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। ব্যানার, ফেস্টুন আর জাতীয় ও দলীয় পতাকায় ছেয়ে গেছে চারপাশ। স্লোগান ও করতালিতে মুখর পুরো সংবর্ধনাস্থল। নেতাকে এক নজর দেখার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন হাজারো মানুষ।

প্রস্তুত ১৯ চেয়ারের মূল মঞ্চ সংবর্ধনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বিশাল মূল মঞ্চ, যেখানে ১৯টি চেয়ার রাখা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছেন। উল্লেখ্য, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনস্রোত রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহসহ দেশের প্রতিটি জেলা থেকে বিশেষ ট্রেন, বাস ও লঞ্চে করে নেতাকর্মীরা রাতেই ঢাকা এসে পৌঁছান। কুষ্টিয়া থেকে আসা সানাহ উল্লাহ জানান, “তারেক ভাইকে এতদিন শুধু পর্দায় দেখেছি, আজ সামনে থেকে দেখব। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।” পটুয়াখালী থেকে আসা প্রবীণ সমর্থক সুবিদ মাস্টার বলেন, “১৬ বছরের রাজনৈতিক নিপীড়ন আর নিষিদ্ধ থাকার পর আজ তাকে মুক্ত বাংলাদেশে বরণ করা আমাদের জন্য ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত।”

বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পূর্বাচল, বনানী ও যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় ব্যান্ড সংগীত ও মিছিলের শব্দে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দীর্ঘ নির্বাসন শেষে এক আবেগঘন পুনর্মিলনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।