মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি

অনলাইন ডেস্ক:

চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এ চুক্তির ফলে মিয়ানমারের চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সহিংসতা কমে গেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, দুই পক্ষ চীনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুনমিংয়ে আলোচনায় বসে এবং বেইজিংকে তাদের শান্তি প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান।

চীনের এই মুখপাত্র আরও বলেন, “মিয়ানমারের উত্তরের পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করা এবং চীন-মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা, এই অঞ্চলের সব দেশের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।” চীন মিয়ানমারের শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা চালিয়ে যাবে এবং সংলাপের প্রচার করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

এমএনডিএএ হল ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ নামক বিদ্রোহী জোটের অন্যতম সদস্য, যা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই জোটের অপর দুই সদস্য হল আরাকান আর্মি (এএ) এবং তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ)। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো একযোগে মিয়ানমার শাসক জান্তার বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে এবং চীনের সীমান্তের কাছে বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের জান্তা-বিরোধী বাহিনীগুলোর অগ্রগতি চীনকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। তারা সীমান্ত অঞ্চলগুলিতে সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চীন মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় বিশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা করছে, যা তাদের বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যকে বিপদে ফেলতে পারে।

এখনও পর্যন্ত চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে যুদ্ধবিরতির চুক্তি সফল হলেও, অতীতের মতো চুক্তি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চীন এই শান্তি প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়ে আশা করছে যে, এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

সূত্র: রয়টার্স