নতুন কৌশলে কক্সবাজারে মানব পাচার, কার্যকর হচ্ছে না অভিযান

ফাইল ছবি

মোঃ সাকিক হারুন ভূঁইয়া :

কক্সবাজার উপকূলে মানব পাচারের ঘটনা বেড়ে চলেছে, যদিও নানামুখী অভিযান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তবে এখনও তা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বরং পাচারকারী চক্র ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সাথে যোগসাজশে মানব পাচারকারীরা অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং পাচারের জন্য বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে শিশু, নারী ও পুরুষ সংগ্রহ করছে। তারা নানা কৌশলে প্রলোভন দেখিয়ে এবং সুযোগ বুঝে পাচারের জন্য এসব ব্যক্তিদের ট্রলারে তুলে দেয়। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে।

২০১২ সাল থেকে কক্সবাজারে মানব পাচার আইনে মোট ৭৪১টি মামলা হয়েছে, কিন্তু একটিও নিষ্পত্তি হয়নি। বেশিরভাগ মামলায় সাক্ষীর অভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে রয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য যে, অধিকাংশ মামলায় আসামিদের সম্পদ ক্রোক করার আদেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি।

কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডি, উখিয়া এবং টেকনাফের ছয়টি নৌঘাট মানব পাচারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এখান থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় লোক পাচার করা হচ্ছে। মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পাহাড়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায় করে। কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে।

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত আড়াই মাসে ৯৯ জন নারী-শিশুকে পাচারকালে উদ্ধার করেছে এবং ২ পাচারকারীকে আটক করেছে। এর মধ্যে র‌্যাবের অভিযানে ৩১ জন রোহিঙ্গা উদ্ধার করা হয়, যারা মালয়েশিয়া পাচারের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল। এছাড়া, ১৪ ডিসেম্বর টেকনাফে ৩০ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়, যারা মুক্তিপণ আদায় করার উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছিল।

কক্সবাজারের জেলা পুলিশ জানিয়েছেন, মানব পাচারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে এবং সুনির্দিষ্ট ঘাটগুলোর তৎপরতা বাড়ানো হবে।