অনলাইন ডেস্ক:
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ায় আরও সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। ইউক্রেইনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ায় লড়াইয়ের জন্য সেনা পাঠানোর কয়েক মাস পর, বিপুল সংখ্যক সেনা হতাহত এবং বন্দি হওয়ার পরেও উত্তর কোরিয়া দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এক বিবৃতিতে বলেছে, “চার মাস আগে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধে সেনা পাঠানোর পর, বহু সেনা হতাহত বা বন্দি হলেও উত্তর কোরিয়া নতুন করে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।” তবে, বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
জেসিএস আরও জানায়, উত্তর কোরিয়া একটি গুপ্তচর স্যাটেলাইট এবং আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিও নিচ্ছে, যদিও তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত নেই।
ইউক্রেইন এবং পশ্চিমা বিশ্লেষকরা দাবি করেন, গত বছরের অক্টোবরে প্রায় ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন হয়েছিল। সেখানে ইউক্রেইনীয় সেনাদের সঙ্গে লড়াইয়ে অংশ নেয় তারা। কিইভের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা নিহত বা আহত হয়েছে।
এদিকে, চলতি মাসে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেইনীয় বাহিনী রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে বন্দি করেছে। এটি ২০২২ সালের শরতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ঘটে।
শুরুতে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া সেনা মোতায়েনের খবর অস্বীকার করলেও, ২০২৩ সালের অক্টোবরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ায় উত্তর কোরীয় সেনাদের উপস্থিতি অস্বীকার করেননি। একদিকে, উত্তর কোরিয়ার এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, এই ধরনের সেনা মোতায়েন বেআইনি নয়।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের জুনে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পায়, যখন পুতিন পিয়ংইয়ং সফর করেন এবং ‘পূর্ণ কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’ সই করেন, যার মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।











