জুলাই হত্যা: শামীম ওসমানসহ ১২ জনের অব্যাহতি আবেদনের শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির অব্যাহতি আবেদনের আজ শুনানি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেলে আজ বৃহস্পতিবার এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

 

একই ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম খুনের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়া গুম ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্যের জেরা আজ। এছাড়া, রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আমির হোসেনের জেরা আজ।

 

অন্যদিকে ট্রাইব্যুনাল ২ এ আজ জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়াতে হত্যাকাণ্ড, উস্কানি ও ষড়যন্ত্রের ঘটনায় আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল হানিফের মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জেরা হওয়ার কথা রয়েছে।

 

এছাড়া, জুলাই হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবেন মামলার তদন্ত তদন্ত কর্মকর্তা।

 

অন্য আসামিরা হলেন- শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।

 

মামলার সব আসামিই পলাতক। তাদের হয়ে আইনি লড়াইয়ের জন্য সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ আসামিদের ডিসচার্জ আবেদন নিয়ে শুনানি করবেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।

 

গত ১৯ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানিয়ে প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে মামলায় আনা তিনটি অভিযোগ তুলে ধরেন তারা। তবে ডিসচার্জের জন্য সময় চেয়ে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

 

প্রসিকিউশনের আনা তিনটির প্রথম অভিযোগ হলো- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী ২১ জুলাই ফাতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্টে বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যা করা হয়।