যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পথে ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাবর্তনের এই দৃশ্য ছিল গভীর আবেগে ভরা। পনেরো মাসের যুদ্ধ শেষে নিজের ভূমিতে ফিরে আসার আনন্দ তাদের চোখে-মুখে ছিল স্পষ্ট।
পোশাক, খাদ্য, এবং সামান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপকূলীয় সড়কে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। তারা জানতেন, ইসরাইলি বোমা হামলায় তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, তবুও নিজেদের মাটিতে ফিরে আসার এই সুযোগকে বিজয়ের চেয়ে কম কিছু মনে করেননি।
ফিলিস্তিনি তরুণী রানিয়া মাখদাদা বলছিলেন, “এই প্রত্যাবর্তনই আমাদের বিজয়। আমরা বিজয়ী।” তার পরিবারসহ আরও অনেকেই উপকূলীয় সড়ক ধরে উত্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।
ইসমাইল আবু মাত্তার তার স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িতে ফিরে এসেছেন। ইসরাইলি হামলায় ঘরের একটি অংশ ধসে পড়লেও তিনি ঠিক করেছেন, পাশেই তাঁবু গেড়ে বসবাস করবেন। তার মতে, অপরিচ্ছন্ন শিবিরে থাকার চেয়ে নিজের ভূমিতে তাঁবুতে থাকাই উত্তম।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, যুদ্ধ শেষে ইতোমধ্যেই দুই লাখের বেশি মানুষ গাজায় ফিরে এসেছেন। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলে ফিরতে থাকা এই মানুষদের মধ্যে ছিল গভীর কষ্টের সঙ্গে মিশে থাকা আনন্দ। তারা জানতেন, বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে, তবুও এই ফিরে আসার অনুভূতি ছিল তাদের কাছে অমূল্য।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিস্তিনিরা পায়ে হেঁটে, গাড়ি বা ট্রাকযোগে তাদের ধ্বংসস্তূপে পরিণত ঘরবাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের একপাশে ছিল ভূমধ্যসাগর, অন্যপাশে ধ্বংসাবশেষে ভরা গাজার ভবনগুলো।
পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে আলিঙ্গন করছিলেন, শিশুরা বুকে জড়িয়ে ধরেছিল তাদের পোষা বিড়াল বা খেলনা। হুইল চেয়ারে বসা এক বৃদ্ধা ১৯৪৮ সালের আগের একটি ঐতিহ্যবাহী গান গেয়ে ফিলিস্তিনিদের ঐক্যের ডাক দিচ্ছিলেন।
“অনেক ধ্বংস, ক্ষুধা ও রোগবালাইয়ের পর আমরা আবারও নিজেদের মাটিতে ফিরে এসেছি,” বলছিলেন এক বৃদ্ধা, খোদার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাদের এই প্রত্যাবর্তন যেন এক প্রতীকী বিজয়—নিজ ভূমিতে ফিরে আসার অদম্য ইচ্ছার বিজয়।











