নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে নির্বাচনের আগ থেকে কাজ করে যাচ্ছে জামায়াত।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান প্রোপাগান্ডা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফখরুল। তিনি বলেন, “একটি অশুভ শক্তি ৫ই আগস্টের বিজয়কে নস্যাৎ করতে চায়। তারা গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তাদের রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল মে দিবসের সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ নতুন দিশা পেয়েছে, কোনো ষড়যন্ত্রই এই অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না।”
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনমত প্রতিফলিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পক্ষ থেকে বিএনপি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে’ মর্মে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “দীর্ঘ ১৮ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচন প্রশংসিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে ২১৩টি আসন পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিয়ে জামাত আমিরের বিতর্কিত মন্তব্য শুধু অনভিপ্রেত নয়, বরং এটি সুস্থ চিন্তার পরিপন্থী।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্য বিএনপি কেবল প্রত্যাখ্যানই করছে না, বরং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। ফখরুলের মতে, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেশে আবারও বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা।
মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ই আগস্টের পর আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ পেয়েছি, একটি বিশেষ পক্ষ বারবার বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সেই সুযোগ নষ্ট করতে চাইছে। তারা দেশকে আবারও স্বৈরাচারের দিকে ঠেলে দিতে চায় কি না, তা দেশবাসীকে ভেবে দেখতে হবে।’
এসময় মে দিবসের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: মহান মে দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আজ দুপুর ২টায় এক বিশাল সমাবেশের ঘোষণা দেন মহাসচিব। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা তারেক রহমান।
কর্মসূচি ও প্রস্তুতি: সারাদেশের জেলা ও উপজেলা ইউনিটগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।











