অনলাইন ডেস্ক:
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈশভোজ চলাকালে আকস্মিক গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের নৈশভোজে অংশ নেওয়ার সময় জরুরি ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় সিক্রেট সার্ভিস। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কয়েক দফা গুলির শব্দে মুহূর্তেই অনুষ্ঠানস্থল উত্তেজনায় ভরে ওঠে।
এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্স জানিয়েছে, গুলির শব্দ শোনার পর নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখান। উপস্থিত অতিথিদের কেউ কেউ টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন, আবার অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে যান। প্রায় ২ হাজার ৬০০ অতিথি থাকা অনুষ্ঠানে এক পর্যায়ে পুরো পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।
বিবিসি জানিয়েছে, একজন নিরাপত্তাকর্মীর দাবি, সাত থেকে আটটি গুলি ছোড়া হয়। রয়টার্সের এক আলোকচিত্রী চার থেকে ছয়টি বিকট শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। পরে ট্রাম্প নিজেই ট্রুথ সোশ্যালে জানান, সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসও নিশ্চিত করে, প্রেসিডেন্ট নিরাপদে আছেন।
ঘটনার পর জরুরি ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরান যুদ্ধে জয়ী হওয়া থেকে কোনো কিছুই আমাকে আটকাতে পারবে না।” হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র এখনো পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। হামলাকারীকে “লোন উলফ” বা একক হামলাকারী হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, তদন্তকারীরা উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন।
মার্কিন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ ঘটনাটিকে গুরুতর আখ্যা দিয়েছেন। মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল উদ্ধার করা অস্ত্র পরীক্ষা এবং সাক্ষ্যগ্রহণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াশিংটনের পুলিশপ্রধান জেফরি ক্যারল জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনের কাছে একাধিক অস্ত্র ছিল।
হোয়াইট হাউসে পরে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক কোনো পেশা আছে, কল্পনাও করতে পারি না।” তিনি সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের “অত্যন্ত সাহসী” বলে প্রশংসা করেন।
ঘটনার পর নতুন করে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময় এবং আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যে এমন ঘটনা বিশ্লেষকদেরও ভাবাচ্ছে। গালফ নিউজ বলছে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান এবং হামলার সময়কাল নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও তদন্তকারীরা আপাতত সরাসরি কোনো আন্তর্জাতিক যোগসূত্র দেখছেন না।
ট্রাম্প ওয়াশিংটন হিলটনকে “খুব বেশি নিরাপদ ভবন নয়” বলেও মন্তব্য করেন। ১৯৬৫ সালে চালু হওয়া এই হোটেল বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আয়োজনের সাক্ষী। তবে শনিবার রাতের ঘটনা সেই নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েই নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ব্রিফিং রুমে উপস্থিতি ছিল বিরল। ট্রাম্প বলেন, এই ঘটনা তার জন্য মানসিকভাবে গভীর আঘাতের।











