ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

কোরবানির চামড়ার দাম বাড়ালো সরকার, বিনামূল্যে লবণ বিতরণের ঘোষণা

প্রকাশিত: 13 May 2026, 9:30 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন দর নির্ধারণ করেছে সরকার। এবার ঢাকায় গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে সর্বোচ্চ ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। একই সঙ্গে চামড়া সংরক্ষণে সারাদেশে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “প্রতি বছর প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হয়। এসব পশুর চামড়া দেশের শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

 

সরকার নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, ঢাকার ভেতরে গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা ঠিক করা হয়েছে।

 

গত বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। সে হিসেবে এবার প্রতি বর্গফুটে দাম বেড়েছে প্রায় ২ টাকা। খাসির চামড়ার ক্ষেত্রেও কিছুটা মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত দামে অনেক জায়গায় চামড়া বিক্রি হয়নি। ফলে এবারও বাজারে সেই দর কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

 

চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ কেনা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, বিসিকের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব লবণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, “চামড়া সংরক্ষণে সঠিক সময়ে লবণ ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে জাতীয় সম্পদ রক্ষা হবে এবং চামড়া পাচারও কমবে।”

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের চামড়া শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটে রয়েছে। বিশেষ করে কোরবানির মৌসুমে দাম নিয়ে কারসাজি, সংরক্ষণের অভাব এবং পাচারের অভিযোগ প্রায় প্রতি বছরই ওঠে। সরকার এবার কঠোর নজরদারির কথা বললেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে তার কতটা প্রভাব পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

চামড়া ব্যবসায়ীদের মতে, নির্ধারিত দাম কার্যকর করতে হলে মাঠপর্যায়ে মনিটরিং বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসাভিত্তিক সংগ্রাহকদেরও প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিতে হবে, যাতে কাঁচা চামড়া নষ্ট না হয়।

মন্তব্য করুন