মে মাসের প্রথম ২০ দিনেই দেশে এলো ২৬২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশের প্রবাসী আয়ে দেখা দিয়েছে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনেই দেশে এসেছে ২৬২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঈদের মৌসুমে প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ পাঠানোর প্রবণতাই এই উল্লম্ফনের মূল কারণ।

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, “চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৮৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার।” অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।

 

প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধির পেছনে ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের জন্য বাড়তি অর্থ পাঠানোর প্রবণতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রবাসীরা স্বজনদের হাতে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ১৯৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

 

এর আগে এপ্রিল মাসে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, আর মার্চে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা একক মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতেও রেমিট্যান্স ছিল যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে না, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাতেও ভূমিকা রাখছে। ঈদের মৌসুম ছাড়াও হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে আস্থা বাড়ার বিষয়টিও এই প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছর জুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা এখন পর্যন্ত এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড।