অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই সফর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
আইসিসি গত বছরের ২১ নভেম্বর এক ঘোষণায় জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নেতানিয়াহু, তাঁর সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যালান্ট এবং হামাসের নেতা মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, গাজার নাগরিকদের ক্ষুধার মুখে ঠেলে দেওয়া এবং সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ইসরায়েলি সরকার এসব অভিযোগকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। এমনকি, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হওয়ার পরেও ট্রাম্পের আমন্ত্রণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে মার্কিন সমর্থনের স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, এই সফর গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৫ মাস ধরে চলা সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়বস্তু এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প গাজা পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি মিসরকে গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দেওয়ার পরামর্শ দেন, যদিও মিসর, জর্ডান ও অন্যান্য আরব দেশগুলো এই ধারণার বিরোধিতা করেছে।
হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে, যার ফলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী ৪৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন জিম্মি হয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার প্রথম ধাপে হামাস ৩৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে এবং বিনিময়ে ইসরায়েল কয়েকশ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে।
এই যুদ্ধবিরতির ফলে কিছু বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি গাজা সিটিতে ফিরে আসতে শুরু করেছেন, তবে শহরটি এখনও পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের এই সফর এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে, এবং এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণও প্রভাবিত করবে।











