অনলাইন ডেস্ক:
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভদিমির পুতিন ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে নয়। তিনি মঙ্গলবার এক বক্তব্যে বলেন, জেলেনস্কির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে বৈধ শাসক মনে করেন না, তাই শান্তি আলোচনায় তার কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়।
পুতিনের এই মন্তব্যের পর, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, “আজ পুতিন আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি আলোচনায় ভয় পান, শক্তিশালী নেতাদের ভয় পান এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।”
গত সপ্তাহে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি করতে চান এবং আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে পুতিন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “যদি জেলেনস্কি আলোচনায় বসতে চায়, আমি প্রতিনিধি পাঠাবো।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়, তাহলে যে কেউ আলোচনায় নেতৃত্ব দিতে পারে, এবং যা আমাদের জন্য উপযুক্ত ও সংগতিপূর্ণ, সেটাই আমরা চেষ্টা করব।”
পুতিন দাবি করেছেন, “যদি পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে, তাহলে দুই মাস বা তারও কম সময়ে যুদ্ধ থামানো সম্ভব।” তিনি ইউক্রেনের যুদ্ধপ্রবণ নীতির জন্য পশ্চিমা সহায়তাকে দায়ী করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে ইউক্রেনে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে বর্তমানে সংঘাতের কোনও স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে না। রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের দলের পক্ষ থেকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি, তবে উভয় পক্ষই আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কিয়েভকে বাদ দিয়ে কোনো শান্তি আলোচনায় বসার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। দেশটি অভিযোগ করেছে যে, পুতিন ট্রাম্পের সঙ্গে ‘কৌশলী আচরণ’ করতে চাইছেন। যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও, কবে শান্তি আলোচনা শুরু হবে তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো নিশ্চিততা নেই।











