অনলাইন ডেস্ক:
লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহে শহরে হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে একটি ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার ফলে একটি পিকআপ ট্রাক ধ্বংস হয়ে যায় এবং আশপাশের পার্ক করা গাড়িগুলো পুড়ে যায়, এতে বহু নাগরিক আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দ আশপাশের এলাকায় প্রতিধ্বনিত হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর নাবাতিহের আল-ফাওকার আল-রাওদাত স্কুলের কাছে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ঘটনায় নাবাতিহের মেয়র ইয়াসির গান্দুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইসরায়েলি বাহিনী আমাদের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে, যারা নিজেদের বাড়িতে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছিলেন।”
লেবাননের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি স্পষ্টতই ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানান, যেন তারা ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে।
২৭ নভেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে অন্তত ৮৩ জন লেবাননবাসী নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বিশেষ করে, যুদ্ধবিরতির দিনে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে ছয় নারীসহ অন্তত ২৪ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে, পরদিনও দু’জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হন। যুদ্ধবিরতির সময় বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা তাদের গ্রামে ফিরে আসার চেষ্টা করলে, হামলায় অন্তত ২২৮ জন আহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায়, ইসরায়েলি বাহিনীকে দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যেতে বলা হয় এবং হিজবুল্লাহ সদস্যদের লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে চলে যেতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলকে দক্ষিণ লেবানন থেকে তার বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।
তবে, ইসরায়েল অভিযোগ করেছে যে হিজবুল্লাহ সীমান্ত থেকে যথাযথভাবে সরে যায়নি এবং নেতানিয়াহু সরকার জানিয়েছে, তাদের বাহিনী নির্ধারিত সময়সীমার পরেও দক্ষিণ লেবাননে থাকবে। অন্যদিকে, লেবানন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে এবং শর্ত পূরণ না হলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।











