নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলনে নেমেছেন একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আনা পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করেন, ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের দায়িত্বে রাখা যাবে না।
আন্দোলনকারীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানের পুনর্বহাল, ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বোর্ড থেকে অপসারণ এবং ব্যাংকিং খাতে জড়িত অনিয়মকারীদের বিচারের আওতায় আনা। পাশাপাশি এস আলম গ্রুপের দখলকৃত মালিকানা ও সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে লুট হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের দাবিও জানানো হয়।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মতিঝিল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় জলকামান ও সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই ব্যাংকের গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দাবির পক্ষে বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সোমবার (১ জুন) একই দাবিতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ওই কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।
আন্দোলনের প্রভাব পড়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকেও। সোমবার দিনের নির্ধারিত বোর্ড সভা সরাসরি অনুষ্ঠিত না হয়ে রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজন করা হয়। নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পাঁচজন পরিচালক অংশ নেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ওই ভার্চুয়াল সভায় ওমর ফারুক খানের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আলতাফ হোসাইন ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে খুরশীদ আলমকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (২ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “খুরশীদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন। তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি হয়েছে। তাকে ঋণখেলাপি বলা সঠিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো আন্দোলন বা চাপের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে চেয়ারম্যান নিয়োগের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করে বিভিন্ন ব্যানারে কর্মসূচি পালন করে আসছেন একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার।











