রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে দিনব্যাপী সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বুধবার (৩ জুন) দিন ধার্য করা হয়েছে।

 

মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরু হয় সোমবার (১ জুন), যখন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করেন আদালত। একই দিন মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র এক দিনের মধ্যেই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার সাক্ষ্যের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে রামিসার মা, বড় বোন, স্বজন, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক চিত্র উঠে আসে।

 

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আদালতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রামিসার বাবা-মা। পরিবার আদালতের কাছে দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে। মামলার বিভিন্ন আলামত, ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক পরীক্ষার তথ্যও আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, পল্লবীর একটি বাসায় বসবাসকারী রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হওয়ার পর প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা আসামিদের কক্ষের সামনে তার স্যান্ডেল দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তারা রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।

 

তদন্তে উঠে আসে, মাদকাসক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর ২০ মে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি অপরাধের দায় স্বীকার করেন এবং ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনের কথাও জানান।

 

আদালত সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।