এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম আবারও কমেছে। জুন মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।

 

এক মাসের ব্যবধানে দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে গ্যাস ব্যবহারকারীদের মধ্যে। বিশেষ করে রান্নার জ্বালানির ব্যয় নিয়ে চাপের মধ্যে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

 

এর আগে মে মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৯৪০ টাকা। সে তুলনায় এবার প্রতি সিলিন্ডারে ৫৫ টাকা কমেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জানায়, সৌদি আরামকোর জুন মাসের কনট্রাক্ট প্রাইস অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের হিসাব, ডলার বিনিময় হার এবং জাহাজ ভাড়া বিবেচনা করেই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুন মাসে সৌদি আরামকো ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৭৯৯ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। এর সঙ্গে ট্রেডার প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া যোগ করে এবং ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৮১ পয়সা ধরে দাম সমন্বয় করা হয়।

 

শুধু এলপিজি নয়, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাস ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকারি এলপিজির দাম আগের মতোই ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

 

বিইআরসি আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না। মূল্য সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতার কারণে সাময়িকভাবে এ ধরনের সমন্বয় দেখা যায়। তবে দীর্ঘমেয়াদে দাম স্থিতিশীল রাখা নির্ভর করবে বৈশ্বিক বাজার ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।

 

এদিকে ভোক্তারা বলছেন, দাম কমলেও জীবনযাত্রার অন্যান্য ব্যয় এখনো চাপ তৈরি করছে। তাই জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি।