জাতিসংঘে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর দেশে ফিরলেন ড. খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক দায়িত্বে নতুন ইতিহাস গড়ার পর দেশে ফেরা এই মুহূর্তকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

 

বিমানবন্দরে নামার পর তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো কথা বলেননি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দিনভর তিনি ঢাকায় অবস্থান করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও নতুন দায়িত্ব নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করতে পারেন।

 

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে গোপন ভোটে ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের কূটনীতিক আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পান ৯১ ভোট। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক–এর স্থলাভিষিক্ত হন।

 

নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় গত ২ জুন নিউইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে। তিন মাস ধরে চলা কূটনৈতিক প্রচারণার পর বাংলাদেশের জন্য আসে এই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। আগামী এক বছর এই দায়িত্ব পালন করবেন ড. খলিলুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘের এই উচ্চপর্যায়ের পদে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করলেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে এই পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।

 

নির্বাচনের পর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পক্ষ থেকে এসেছে অভিনন্দন বার্তা। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপসহ একাধিক দেশ এই অর্জনকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস–ও ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে তার অভিজ্ঞতাকে বৈশ্বিক সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে নতুন অবস্থান তৈরির ইঙ্গিত দেয়। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, উন্নয়ন বৈষম্য ও ডিজিটাল শাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে নতুন নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভূমিকা আরও সক্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।