নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সহজ ও গতিশীল করতে লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ওয়ান স্টপ উইন্ডো ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রোববার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব তথ্য জানান। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে সরকার খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়া একীভূত করার কাজ চলছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা সহজেই প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, “শিল্পকারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, পরিবেশ ও অগ্নিনিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় সময় লাগতে পারে। তবে বিনিয়োগ থেমে না থাকে, সে জন্য প্রভিশনাল লাইসেন্স দেওয়া হবে।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিক কাজ শুরু করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
বিডা, অর্থাৎ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সব পরিদর্শন কার্যক্রম এক জায়গায় সমন্বয় করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। এতে একাধিক সংস্থার আলাদা আলাদা পরিদর্শনের ঝামেলা কমে আসবে।
বৈঠকে বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রসঙ্গেও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট এবং ব্যয় বিবেচনায় সরকার ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড পরিবহনের দিকে এগোচ্ছে।
তবে আপাতত প্লাগ ইন হাইব্রিড গাড়িকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জেবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্প স্থাপন সহজ করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়ান স্টপ উইন্ডো ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালু হলে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে এবং শিল্প খাতে গতি আসবে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।











