নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে দেশটিতে গেছেন তিনি। রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তাঁর সহধর্মিণী। এ সময় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও স্ট্যাটিক গার্ড অব অনারও প্রদান করা হয়। এক শিশু তাঁর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়।
এর আগে রোববার (২১ জুন) বিকেল পৌনে ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ডা. জোবাইদা রহমান, কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তারা।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।
সফরসূচি অনুযায়ী মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চীন সফরে যাবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক, চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা ও প্রোটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা প্রকল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।











