বিদেশ সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, তার এই বিদেশ সফরের মূল উদ্দেশ্য ও চিন্তা ছিল দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা।

 

আজ শনিবার সকাল ১১টা ২ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

 

অধিবেশনে সদ্য সমাপ্ত বিদেশ সফর ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “মাননীয় স্পিকার, এখানে মূল বিষয়টি হচ্ছে যে, বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি, সেটি হচ্ছে যে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশের স্বার্থ আগে।’ যে কাজটি করার চেষ্টা করেছি, মাননীয় স্পিকার, আমি আমার অবস্থান থেকে, আমি আমার দেশের আর এ দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলা এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।”

 

সফরের প্রাপ্তি ও দেশের মানুষের অধিকারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এখানে আমাদের কারোই কোনো ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। যদি কোনো কিছু অবজেকশনে থাকে এটি বাংলাদেশের অবজেকশন, দেশের মানুষের অবজেকশন।’

 

সংসদে বিরোধীদলের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংসদের সকল সদস্য, বিশেষ করে বিরোধীদলের নেতা, তিনিও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার। সুতরাং আবারও আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সকল সদস্যকে, বিশেষ করে বিরোধীদলের সকল সদস্যদেরকেও ধন্যবাদ জানাবো।’

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আজ বাজেট অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সমর্থনে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, এই সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে এবং চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী ভিআইপি সংস্কৃতির পুরোনো প্রথা ভেঙে নিজের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বন্ধের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই সফর পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতিকে পুনর্নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও দেশের স্বার্থকে সবার আগে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে এবং সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে অন্ধ বিরোধিতার সংস্কৃতি পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে হবে।

 

এর আগে, স্পিকারের ঘোষণা অনুযায়ী সংসদ মুলতবি থাকার পর আজ পুনরায় অধিবেশন শুরু হলে সংসদ সদস্যরা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন।