চীনের সঙ্গে ৬ সমঝোতা, বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তনের আশা তথ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চীনের সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার খাতে স্বাক্ষরিত ছয়টি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তার মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণায় দুই দেশের সহযোগিতা বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।

 

রোববার (২৮ জুন) চীনের সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্মারকগুলো নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে আমি চীন সরকারের সঙ্গে ছয়টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছি। এর মাধ্যমে দুই দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।”

 

তিনি আরও বলেন, “চীনের মতো একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দেশের সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এআই, নিয়ে গবেষণার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আনতে পারব বলে আমরা আস্থাবান।”

 

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১৩টি সমঝোতা স্মারকে সই হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং, প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছ থেকে যে গুরুত্ব ও সম্মান পাওয়া গেছে, তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। তার ভাষায়, “বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আমাদের দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মর্যাদাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”

 

তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে দুটি চুক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। “চীনের আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় আমরা মুগ্ধ। প্রতিনিধি দলের প্রতি তাদের যে আন্তরিকতা, তা বাংলাদেশের জনগণের প্রতিই তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।”

 

তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

 

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১২ জুন) প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরে চীন সফরে যান। চার দিনের চীন সফরের প্রথম দুই দিন তিনি দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। পরে বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং, প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক ও সাক্ষাৎ করেন।