নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল পরিকল্পনাকারী কে, তা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড নেই। তার ভাষায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত কৃতিত্ব বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এবং দেশের যুবসমাজের।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় বিষয়টি সামনে আসে। বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের একটি আগের বক্তব্য উদ্ধৃত করে দাবি করেন, সেখানে তারেক রহমানকে আন্দোলনের ‘প্রধান নায়ক’ বলা হয়েছিল।
এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, উদ্ধৃত বক্তব্যটি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে দেওয়া হয়েছিল, ৫ আগস্টের পর নয়। তার ভাষায়, “ধন্যবাদ রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাহেবকে। উনি আমার একটা বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। কিন্তু সময়টা সঠিকভাবে বলেননি। এই বক্তব্য ছিল চব্বিশের এপ্রিল মাসের। পরিবর্তনটা হয়েছে চব্বিশের ৫ আগস্ট।”
তিনি আরও বলেন, “ওই সময় যাদের নেতৃত্বে এই অভ্যুত্থান সফল হয়েছে, আমরা সবাই অন্তর থেকে তাদের সম্মান করি, ভালোবাসি। তাদের সেই জায়গাটা ঠিক রাখতে হবে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্র সফরে একজনকে আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে তখনই তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন। তার বক্তব্য, “আমি প্রথমেই এর প্রতিবাদ করে বলেছি, এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না। আমাদের যুব সমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। আর মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।”
দুপুরে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে বিষয়টি আবারও উত্থাপন করেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক। তিনি বলেন, শফিকুর রহমান অতীতে এক ইফতার মাহফিলে তারেক রহমানকে জুলাই আন্দোলনের ‘মহানায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাই প্রতিমন্ত্রী মিল্লাতের বক্তব্য সঠিক এবং তা সংসদের কার্যবিবরণীতে থাকা উচিত।
এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তিনি বক্তব্যের বিষয়টি অস্বীকার করছেন না, তবে সেটি ৫ আগস্টের আগের প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়েছে এবং আন্দোলনের কৃতিত্ব যাদের প্রাপ্য, তাদেরই স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা নেতৃত্বের নয়, বরং দেশের জনগণ ও তরুণদের।











