নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বললেন, “বর্তমান স্বাস্থ্য খাতকে কপি অ্যান্ড পেস্ট ও জোড়াতালির নীতিতে চলছে। নতুন প্রজেক্টের চেয়ে বিদ্যমান জনবল ও লজিস্টিক সংকট দূর করে হসপিটালগুলোর মান ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় জরুরি।”
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, চলমান বাজেট অধিবেশনে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা এবং অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। দেশের বাজেট হতে হবে ইনসাফভিত্তিক, যেখানে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ ও অঞ্চলের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমান বাজেটে তার বড় ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমাজে উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বাধা হলো দুর্নীতি এবং জবাবদিহিতার অভাব। পদ্ধতিগতভাবে কোনো একটি এলাকা থেকে এই অসততা ও স্বচ্ছতার অভাব দূর করার উদ্যোগ নিলে তবেই জাতি এর সুফল পাবে। প্রযুক্তির সহায়তায় অন্তত ২০ দিন আগে যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়া যায়, সেখানে তিন মাস আগের সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাসের মাধ্যমে বাজেটের অপচয় ও লুটপাটের সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে বৈশ্বিক ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখতে পারছে না। ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে অসংখ্য পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও বিশ্ব র্যাংকিংয়ে আমাদের কোনো সম্মানজনক অবস্থান নেই, বরং আমরা দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছি। এর মূল কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা মিশন নেই। দক্ষ ও যোগ্য মানুষকে সম্মান না দিয়ে বরাবরই রাজনৈতিক প্রাধান্য ও নিজেদের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে লালন করার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি দেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রতি বাজেটে কোনো বরাদ্দ বা বিবেচনা না থাকায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সরকারি অনুদান নিলে শিক্ষার মৌলিকত্ব ক্ষুণ্ন হবে, কওমি ধারার এমন একটি আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকারের উচিত তাদের সম্মিলিত সংস্থা হাইয়াতুল উলইয়ার সাথে বসে নিশ্চয়তা দেওয়া যে, তাদের পরামর্শ মোতাবেকই এটি পরিচালিত হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের যে হক রয়েছে, তা বুঝিয়ে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। একইভাবে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখে জুলুম না করে, রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে একটি নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে মান যাচাই করে দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
উন্নত দেশের মতো বিত্তবানদের জন্য বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত সরকারি শিক্ষা নিশ্চিত করা পুরোপুরি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হওয়া উচিত। এই লক্ষ্যে পাহাড়ের অনগ্রসর ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য সেবার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের ন্যায্য অধিকার হাতে তুলে দিলে পাহাড়ে আর কোনো দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যকে প্রাণ হারাতে হবে না।
‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণাধর্মী করার ওপর জোর দিয়ে তিনি অন্তত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট ও অতিরিক্ত ফান্ড দিয়ে গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর করার প্রস্তাব দেন, যাতে দেশ চিরকাল আমদানি-নির্ভর না থেকে নিজস্ব পণ্য রপ্তানির যোগ্যতা অর্জন করতে পারে’-উল্লেখ করেন তিনি।











