নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করা। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ সদস্যরা থানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার কারণে অপরাধ দমনে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা মোকাবেলায় নতুন সরকার ঢাকায় পুলিশের জনবল নিয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনলেও, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তেমন উন্নতি লাভ করেনি।
নতুন পরিবর্তন সত্ত্বেও, রাজধানীসহ সারা দেশে বেড়ে গেছে ছিনতাই, খুন, এবং অন্যান্য অপরাধের ঘটনা। পুলিশ সদর দপ্তর এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বছরের শেষ পাঁচ মাসে দেশে ১,৫৬৫ জন খুন হয়েছেন, যা প্রতিমাসে গড়ে ৩১৩ জন খুনের সমান। এই সময়ের মধ্যে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন।
এছাড়া, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসেও অপরাধমূলক ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা, তবে পুলিশ জানায়, সব ছিনতাইয়ের ঘটনা থানায় নথিভুক্ত হয় না, অনেকেই অভিযোগ করেন না। ছিনতাইকারীরা এখন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, সর্বস্ব কেড়ে নিতে মারমুখী হয়ে উঠছে। গত পাঁচ মাসে ঢাকায় অন্তত ৭ জন ছিনতাইকারীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
এই পরিস্থিতির অবনতির জন্য, অপরাধ বিশ্লেষকরা বলেছেন, পুলিশ বাহিনীর কাজের গতি কম থাকায় এসব অপরাধ বেড়ে চলেছে। তারা আরো জানাচ্ছেন, বর্তমানে চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এটি পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে। অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত জামিন পেয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কার্যক্রমে কিছু দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে। তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে পালানো ৭০০ আসামি এখনও অধরা রয়েছে।
এভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে, যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে ধরছে।











