ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

মধ্য বাড্ডায় স্ত্রী হত্যা, ৯ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: 21 July 2026, 5:21 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রায় ৯ বছর আগে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় স্ত্রী শাকির খাতুন সোমাকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় দেন।

 

রায় ঘোষণার আগে মনির হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মামলাটিতে তিনি জামিনে ছিলেন। গত ১৪ জুলাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করে তার জামিন বাতিলের আদেশ দেন।

 

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

 

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকির খাতুন সোমার বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর একপর্যায়ে মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। সন্তানের কথা চিন্তা করে সোমা এসব নির্যাতন সহ্য করতেন।

 

মনির ব্যবসার কথা বলে বিভিন্ন সময় সোমার পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিতেন। মামলার নথি অনুযায়ী, সোমার পরিবার তাকে বিভিন্ন সময়ে ১১ লাখ টাকা দেয়। এরপরও আরও টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করা হতো।

 

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে মনির মারধর করে সোমাকে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে সোমা তার মায়ের বাড্ডার বাসায় চলে যান। আর নির্যাতন করবেন না, এমন অঙ্গীকার করে কয়েকদিন পর মনির তাকে আবার ফিরিয়ে আনেন। তবে এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

 

২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে জবাই করেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোমাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এ ঘটনায় সোমার মা মোসা. আক্তার বানু ওইদিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দেন।

 

তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক বায়েজীদ বোস্তামী আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০১৮ সালের ১৭ মে মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

 

মামলার বিচার চলাকালে ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার মনির হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত।

মন্তব্য করুন