ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

চট্টগ্রামে গাড়িচালক সজীব হত্যা: তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: 17 August 2026, 6:16 pm
ফন্ট:

জেলা প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানার টোল রোড এলাকায় গাড়িচালক মো. সজীব হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (১৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার নুরুল আমিন, কুমিল্লার দেবীদ্বারের শাহজাহান এবং ফেনী সদর উপজেলার নুরুল আলম টুটুল। রায় ঘোষণার সময় টুটুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর দুই আসামি পলাতক।

 

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর জানান, মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্য এবং উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

 

রায় ঘোষণার পর নুরুল আলম টুটুলকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পলাতক নুরুল আমিন ও শাহজাহানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন সজীব। তখন তার বয়স ছিল ২৭ বছর। তিনি নোয়াখালীর চাটখিল থানার আব্দুল হক স্বপনের ছেলে এবং পণ্যবাহী গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন জেলায় মালামাল পরিবহন করতেন।

 

নিখোঁজের ১০ দিন পর, ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর পাহাড়তলী থানার টোল রোডের পূর্ব পাশে একটি কৃষিজমি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মাধ্যমে মরদেহটি সজীবের বলে শনাক্ত করা হয়।

 

পুলিশের নথিতে বলা হয়েছে, সজীবের মাথার পেছনে থেতলানো আঘাত, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল।

 

এ ঘটনায় সজীবের ছোট ভাই ইকবাল হোসেন রবিউল বাদী হয়ে মামলা করেন।

 

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নুরুল আমিনের সঙ্গে ২০১৪ সালে এক পোশাক শ্রমিক নারীর বিয়ে হয়। পরে ২০২১ সালে ওই নারীর সঙ্গে সজীবের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে নুরুল আমিন একাধিকবার সজীবকে আটকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে নুরুল আমিনের বিচ্ছেদ হয়। এতে সজীবের ওপর নুরুল আমিন আরও ক্ষুব্ধ হন।

 

২০২১ সালের অক্টোবরে ওই নারীকে আবার বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হবিগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামে আসেন নুরুল আমিন। বিয়ের আগে সজীবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি এবং এ বিষয়ে শাহজাহানের সঙ্গে আলোচনা করেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে ওই নারীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর রাতে সজীবকে ডেকে আনেন নুরুল আমিন, শাহজাহান ও নুরুল আলম টুটুল। এরপর তাকে ঘটনাস্থলের পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে মাথা ও পেটে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে অণ্ডকোষ চেপে এবং গলায় গেঞ্জি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে সজীবকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে।

 

পরে তিন আসামি সেখানেই মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

 

তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করা হলো।

মন্তব্য করুন