কাঙ্ক্ষিত সংস্কার অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে না: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কাঙ্ক্ষিত সংস্কার অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, বিএনপি মুখে এক কথা বললেও কাজে করছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু।

 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিএনপি মুখে এক কথা বলে, কাজে আরেক কথা বলছে। আমরা এর আগেও বলেছি যে, এই সরকার গণভোটের রায়ের সাথে প্রতারণা করেছে। জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, গণতন্ত্রের সাথে। আমাদের যাবতীয় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সাথে প্রতারণা করেছে।” তার ভাষায়, দেশজুড়েই এখন চলছে একধরনের দলীয়করণের চর্চা।

 

এই দলীয়করণের প্রভাব প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, “সকল প্রশাসনের সব জায়গায় এবং এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও এক প্রকার দলীয়করণের মাধ্যমেই দলীয় প্রার্থী দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করছে। যেখানে স্বাধীনভাবে কোনো ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই, তারা নিজেরাই বলে দিচ্ছে।” এই পরিস্থিতিতে বিএনপি গণতন্ত্রের পক্ষে আছে বলে মনে করেন না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

 

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই অনুচ্ছেদ না থাকলে কিংবা এখনো স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে রাষ্ট্রপতি পদটি আরও বেশি সম্মানিত হতো। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর যে ক্ষমতার ভারসাম্য, সে ধরনের ভারসাম্যের দিকে আমরা এগোতে পারতাম। কিন্তু সেটা তো আমরা আর এগোতে পারছি না।”

 

তবে সংস্কার না হলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়নি এনসিপি, বরং প্রতীকী অবস্থান হিসেবেই প্রার্থী দিয়েছে দলটি। এ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এটা একটা রাজনৈতিক অবস্থান নেয়ার জন্য, জনগণকে একটা বার্তা দেয়ার জন্যই আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি যে আমরা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।” তিনি আরও বলেন, “সরকার কোনো সংস্কার না করলেও আমরা এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছি যাতে এই আলোচনাটা আসে, এই নির্বাচনটা কম্পিটিটিভ হয়, এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটা নিয়ে মানুষ আরও বেশি সচেতন হয় এবং মানুষের কাছে এটা পরিষ্কার হয়।”

 

নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাসের চিত্রটিই আরও একবার সামনে এলো। সংস্কারের প্রশ্নে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েনের রেশ যে এখনো কাটেনি, তা স্পষ্ট এই বক্তব্যেই।